Ak-47 আবিষ্কারক মিখাইল কালাশনিকভের অজানা ইতিহাস

আদীমকাল হতে বর্তমান সময়ের ইতিহাসে যে কয়টি সমরাস্ত্র মানুষ বানিয়েছে প্রতিরক্ষার জন্য তারমধ্যে সবচেয়ে কম খরচে কিন্তুু সবচেয়ে বেশি হতাহতের রেকর্ড যার সুউচ্চ তা একমাত্র সোভিয়েত ইউনিয়নের একে ৪৭ এরই দখলে। আজ আমরা জানব এর আবিষ্কারক মিখাইল কালাশনিকভ ও তার আবিষ্কারের দুর্দান্ত কিন্তুু একই সাথে গা শিউরে উঠা সে অজানা রোমাঞ্চকর আবিষ্কার কাহিনি।

  ছবি: মিখাইল কালাশনিকভ ও তার আবিষ্কৃত একে ৪৭


জন্ম ও নির্বাসন

১৯১৯ সালের ১০ই নভেম্বর এক শুভক্ষনে কালাশনিকভ দম্পতির কোল আলো করে ১৭ তম সন্তান হিসেবে জন্ম নেন মিখাইল কালাশনিকভ। কিশোর কালে কালাশনিকভের ছিল লেখালেখির প্রতি বিশেষ আকর্ষণ। বেশ কিছু লেখনীও ছিল তার, কিন্তুু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সে লেখালেখি ঠিক বেশিদিন টেকেনি । তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে যেসব কৃষক তুলনামূলক একটু বেশি পরিমান সম্পত্তির মালিক ছিল তাদেরকে তাদেরকে কুলাক বলা হতো এবং জোর করে নির্বাসিত করা হতো। কালাশনিকভ পরিবারও এই ট্রাজেডির শিকার হন। আদৌতে তার পরিবার দরিদ্র ছিল কিন্তুু তাদের জোর করে তাদের জন্মস্থান আলটাই থেকে  কাজাকিস্তানে পাঠানো হয় বসবাস করার জন্য। তবে এ নির্বাসন ঠিক গুলাগের মত কঠোর নয় বরং সেখানে তাদের নির্দিষ্ট একটা সময় বসবাস করতে হত আবার তাদের বাসভূমিতে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হতো যদি তারা কমিউনিস্ট সরকারের প্রতি অনুগত থাকতেন তবে।

                                                         ছবি: আলটাই,রাশিয়া                          Image Source: Flickr


কাজাকিস্তানে বসবাসের সময়

জন্মস্থান আলটাই থেকে যখন তারা কাজাকিস্তান পাড়ি জমান স্টালিনের অত্যাচারী কমিউনিস্ট সরকারের কারনে তখন থেকেই কিশোর কালাশনিকভ তাদের খাবারে আমিষের জোগানের জন্য প্রায়ই বাবার বন্দুক নিয়ে শিকারে বের হতেন এবং যথেষ্ট পরিমান আমিষ পেতেন শিকার করার মাধ্যমে । সেখান থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র ও মেকানিক্স এর প্রতি শুরু হয় তার বিশেষ আকর্ষণ। ক্লাস সেভেন পাশ করার পর তিনি তার পরিবারের অনুমতি নিয়ে বের হন কাজের খোজে অতঃপর কাজাকিস্তান এরই কোস্তানাই অঞ্চলের একটি  ট্র্যাক্টর ওয়ার্কশপে মেকানিক্স হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে ট্র্যাক্টর এর সরকারি সেবা দেওয়া হত,কৃষকরা এসব সরকারি মালিকানাধীন ট্র্যাক্টর ভাড়া নিয়ে তাদের জমিতে চাষবাস করতেন। সেগুলোর তৈরি,মালিকানা,মেরামত সবকিছু সরকারের হাতেই ছিল। সেখানেই ট্র্যাক্টর  মেরামত, ইন্জিন খোলা, জোড়া লাগানো সহ পুরো ট্র্যাক্টর এর সকল মেকানিকাল সমস্যা সমাধানে তিনি পারদর্শী হয়ে ওঠেন। বলা যায় তার মেকানিক্স এর হাতেখড়ি হয় কাজাখস্তান এর সেই ট্র্যাক্টর প্লান্ট থেকেই।

       ছবি: ১৯৩০ সালে সোভিয়েত মেশিন ট্র্যাক্টর স্টেশন       

Image Source: PICRYL
আলটাইতে ফেরা ও রেড আর্মিতে যোগদান

১৯৩৬ এ তাদের নির্বাসন শেষ হলে জন্ম ভূমি আলটাইতে ফেরত আসেন এবং তার মেকানিক্স এর দক্ষতা পুরোদমে শান দিতে শুরু করেন। এরই মধ্যে ১৯৩৬ সাল থেকে ইউরোপে ভয়াবহ এক অবস্থা তৈরি হয়। তৎকালীন জার্মান নেতা এডলফ হিটলার ১৯৩৬ এ ওয়েরমাকট ও লুফটওয়াফে এর মাধ্যমে রাইনল্যান্ড পুনরুদ্ধার করেন এবং ১৯৩৭ নাগাদ তার সমর্থিত বাহিনী স্পেন এর গৃহযুদ্ধে ক্রমেই সফল হতে থাকে। পুরো ইউরোপ ১ম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বের হতে না হতেই আবার বুঝতে পারে ২য় বিশ্বযুদ্ধ দরজায় কড়া নাড়ছে। এমতাবস্থায় ১৯৩৮ এ কালাশনিকভ সোভিয়েত রেড আর্মিতে যোগ দেন একজন ট্যাংক মেকানিক হিসেবে। সোভিয়েত ইতিহাসের সবথেকে সফল ট্যাংক টি-৩৪ এর মেকানিক হিসেবে নিযুক্ত হন। 

                                                     ছবি: সোভিয়েত টি-৩৪ ট্যাংক                        Image Source: wikimedia 


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ  ও একে-৪৭ তৈরির প্রেক্ষাপট

১৯৪১ সালে জার্মানরা সোভিয়েত ইউনিয়নে অপারেশন বারবারোসা শুরু করলে তখন কালাশনিকভকে টি-৩৪ ট্যাংকের ড্রাইভার-মেকানিক হিসেবে বর্তমান ইউক্রেনে পাঠানো হয় যুদ্ধ করতে। সেখানে জার্মান ওয়েরমাকট ও লুফটওয়াফে এর ব্যপক আক্রমণে রাশিয়ানরা একপ্রকার পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়।  জার্মানদের আক্রমণ এতটা বড় ও তীব্র ছিল যে মস্কো পৌছাতে জার্মান সেনাদের মাত্র ১০ সপ্তাহ লেগেছিল। প্রায় ১৪৮ টি পদাতিক, প্যানজার ও এসএস ডিভিশন এ হামলায় অংশ নেয় যার রেকর্ড  আজও কেউ ভাঙতে পারেনি। স্বভাবতই কালাশনিকভও ইউক্রেনের ব্রায়ানস্ক ফ্রন্টে অক্টোবর মাসে তীব্র হামলায় আর্টিলারি শেল এর আঘাতে গুরুতর আহত হন এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। এসময় তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন রাশিয়ানদের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র জার্মানদের তুলনায় অনেকটা ব্যাকডেটেড বা কার্যকরী নয় যা সোভিয়েত রেড আর্মিকে পিছিয়ে ফেলছে। তার এ চিন্তাই তাকে আধুনিক কিন্তুু একইসাথে সাশ্রয়ী ও কার্যকর একটি অস্ত্র বানাতে চূড়ান্তভাবে বাধ্য করে। 


                                                  ছবি: জার্মান সেনারা মস্কোর কাছাকাছি    
       
                                                       Image Source: w.h.encyclopedia

একে ৪৭ এর পূর্বসুরী একে-৪২ এসএমজি

হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই তিনি জার্মানির এমপি-৪০ মডেলের সাব মেশিনগান দেখে অনেক মুগ্ধ হন,জার্মান  এমপি ৪০ এর যেমন ছিল স্মুথ ফায়ারিং তেমনি ছিল হাই রেট অব ফায়ার যা ক্লোজ কমব্যাট এর জন্য একেবারে আদর্শ । আবার এরই মাঝে সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের বাহিনীকে পিপিএসএইচ-৪১ সাব মেশিনগান সরবরাহ করতে শুরু করে কারন সেসময়ে আ্যাসল্ট রাইফেল প্রচলিত ছিল না। শুধু জার্মানরাই আ্যাসল্ট রাইফেল এর মত আধুনিক রাইফেল ব্যাবহার করত। কালাশনিকভও তার প্রথম ডিজাইন করেন একটি সাব মেশিনগান, অনেকেই ভাবে তিনি হয়ত প্রথমেই একে-৪৭  তৈরি করে ফেলেছিলেন কিন্তু বাস্তবতা হলো একে-৪৭ ছিল তার তৈরি ৪র্থ মডেলের অস্ত্র ।

প্রথমে তিনি একটি সাব মেশিনগান ডিজাইন  করেছিলেন কারন সাব মেশিনগানই তখন কম খরচে ও দ্রুত তৈরি করা যেত। তার তৈরি প্রথম অস্ত্র পিপিকে-৪২ নামে পরিচিত। এরপর তার তৈরি এই সাব মেশিনগান ফায়ারিং রেঞ্জ এ পরীক্ষা করলে বেশ কিছু সমস্যা থাকায় রেড আর্মি তা রিজেক্ট করে। এরপর ১৯৪৩ তিনি একটি লাইট মেশিনগান তৈরির প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করেন এবং আরপিডি এর মত মেশিনগানের সাথে প্রতিযোগীতায় হেরে যান। এরপর তিনি কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েন।এসময় তিনি এসব থেকে  সরেই যেতে শুরু করেন, কালাশনিকভ পরে নিজেই তার লিখনিতে এসময়ের সৃতিচারণ করতে গিয়ে একথা স্বীকার করেন। 


                ছবি: জার্মানির তৈরি এমপি-৪০ এসএমজি                

Image Source: wikimedia
লিজেন্ডারি একে-৪৭

কালাশনিকভ হতাশ হয়ে পড়লেও যারা তাকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষন করছিলেন তারা ঠিকই বুঝতে পারেন যে তিনি ঠিক পথেই এগোচ্ছেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উল্লেখযোগ্য হলো ভাসিলি ডেগত্যারেভ।  তিনি যে কেউ ছিলেন না, তিনি ছিলেন সোভিয়েত বিখ্যাত ডিপি-২৮ মেশিনগান ডিজাইনার এবং রেড আর্মির একজন এলিট। তিনিই কালাশনিকভকে ডেকে খুব উৎসাহ দেন। এরপর তৎকালীন রেড আর্মি ১৯৪৪ তাদের কার্টিজের (গুলির) নতুন স্ট্যান্ডার্ড সাইজ ৭.৬২*৩৯ মিলিমিটার করলে কালাশনিকভ প্রথমবারের মত আ্যাসল্ট রাইফেল নিয়ে কাজ শুরু করেন যা একে-৪৬ নামে পরিচিত।
এরপর একে একে রেড আর্মির টপ জেনারেলরা তার সাহায্যে এগিয়ে আসতে শুরু করেন। এদের মধ্যে আলেকজান্ডার জাইতসেভ যিনি কালাশনিকভকে মেশিন টেকনোলজির অভিজ্ঞতা দিয়ে সহায়তা করেন,আরেক এলিট বোরিস শিলিন রাইফেলের  প্রডাকশন বান্ধব ডিজাইন ও  গ্যাস সিস্টেম এর মেকানিজমে ব্যাপক সহায়তা দেন। আর সর্বশেষ ভলাদিমির ডেইকন পুরো মডেলটাকে গন উৎপাদন বান্ধব করতে কালাশনিকভকে গাইড করেন। বলতে গেলে ভাসিলি তাকে একটি স্পেশাল টিম ও ফ্যাসিলিটিই দেন যাতে কালাশনিকভ তার প্রতিভার পুরোটা দিতে পারেন।

                                                  ছবি: একে-৪৬ রাইফেল                        Image Source: wikimedia
                   

অবশেষে আসে সেই চূড়ান্ত মুহুর্ত, ১৯৪৬ এ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হতেই শুরু হয় কমিউনিজম ও ডেমোক্রেসির সেই ঔতিহাসিক  লড়াই আর এরই মধ্যেই শুরু হয় আরেকটি আর্মস প্রতিযোগীতা। এতে বেশ কয়টি আধুনিক ডিজাইন অংশ নেয় এমনকি কালাশনিকভকে উৎসাহ দেওয়া জেনালের ভাসিলিরও একটি ডিজাইন অংশ নেয়। প্রতিযোগীতার প্রথম দিকে আবারও কালাশনিকভ পিছিয়ে যান বালকিনের তৈরি এবি-৪৬ মডেলের কাছে।  তবে একটি রাইফেল শুধু আদর্শ কন্ডিশনে কেমন ফায়ার করে তার উপর ডিপেন্ড করে না, ডিপেন্ড করে ধুলাবালি, কাদাবালি,পানি ও বরফে কেমন পারফর্ম করে। এটাই ফাইনাল স্টেজ একটা রাইফেলকে সিলেক্ট করার। ফাইনাল টেস্টিং শুরু হলে বালকিনের এবি-৪৬ পিছিয়ে পড়ে, রাশিয়ার আগের মডেল গুলোর মত এটি ব্যাপক জ্যামিং ও মিস ফায়ার এর শিকার হয়। 
তবে এবারই শুরু হয় একে-৪৬ এর খেলা, এই টেস্ট এ একে-৪৬ প্রথমে আদর্শ কন্ডিশনে যেমন পারফর্ম করেছিল ঠিক সেরকম পারফর্ম করে এই কঠিন টেস্টিং এর মধ্যেও। এমনকি কালাশনিকভের উৎসাহদাতা জেনালের ভাসিলির তৈরি মডেলটিও একে-৪৬ এর তুলনায় বাজে পারফর্ম করে। অতঃপর জেনারেল ভাসিলি প্রকৃত প্রতিভার প্রতি সম্মান জানিয়ে নিজের ও বালকিনের মডেল বাদ দিয়ে কালাশনিকভের মডেল কে ফাইনালাইজ করেন। অবশেষে কালাশনিকভ তার তিল তিল করে করা পরিশ্রম ও সপ্নের বাস্তব রূপ দেখতে পেয়ে আনন্দে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তার সহকর্মীরা এমনকি অন্য প্রতিযোগীরাও তাকে এতটা ভালোবাসা ও সমর্থন দেন যে আর্মস প্রতিযোগীতার ইতিহাসে তা একেবারে বিরল ।


একে-৪৭ এর একটিভ সার্ভিসে যোগদান

অবশেষে ১৯৪৮ সালে একে-৪৬ কে আরও কিছুটা মডিফাই করা হয় এবং এই ভার্সনটাই আজ সারা বিশ্বে একে-৪৭ নামে পরিচিত, ছোট স্কেলে উৎপাদন শুরু হয় এবং ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত কয়েকটি প্রোটোটাইপ তৈরি করা হয় ও ছোটখাটো কিছু সমস্যা দূর করা হয় যাতে গণ উৎপাদনের উপযোগী হয়। এরপর গণ উৎপাদন শুরু হলে এটি রেড আর্মির স্ট্যান্ডার্ড  রাইফেল হিসেবে ইস্যু করা হয়।
রেড আর্মির পাশাপাশি কমিউনিস্ট ঘেষা দেশগুলো এবং ৩য় বিশ্বের দেশগুলোর সেনাবাহিনীর ১ম পছন্দ ছিল একে-৪৭। এটি গত শতাব্দীর বড় সকল যুদ্ধেই ব্যবহৃত হয়েছে যেমন ভিয়েতনামের যুদ্ধ, আফগান যুদ্ধ, ইরাক-ইরান যুদ্ধ এছাড়াও বিশ্বব্যাপি বিভিন্ন গৃহযুদ্ধে। এমনকি বর্তমান ইউক্রেন যুদ্ধেও এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

                                                  ছবি: প্রথম দিকে তৈরি একে-৪৭                    Image Source: wikimedia



কালাশনিকভের গুরুত্ব ও তার আফসোস পূর্ন  শেষ দিনগুলো

এত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের পরও তিনি কোনো রয়্যালিটিও পান নি আবার সোভিয়েত সরকারও তাকে বিশেষ ধন সম্পদ দেয়নি। বরং হাস্যকরভাবে তার বেতন কিছুটা বাড়ে।  পরে তাকে ইজেভস্ক মেকানিকাল প্লান্ট এ রাইফেল উন্নয়ন ও মেশিনগান তৈরির দায়িত্ব পান। তিনি সোভিয়েত বিখ্যাত পিকেএম মেশিনগান তৈরির দলের একজন। আজও পিকেএম মেশিনগানকে অন্যতম সেরা জেনারেল পারপাস মেশিনগান হিসেবে ধরা হয়। তবে সব বিখ্যাত সমরাস্ত্র ডিজাইনার ও আবিষ্কারক এর মত তারও শেষ জীবনটা হতাশায় পরিপূর্ণ ছিল। যদিওবা তিনি তার দেশের জন্য এ রাইফেল তৈরি করেন তথাপি বিশ্বব্যাপী এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার তাকে ব্যথিত করে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি কাজ করে গেছেন এবং একজন মধ্যবিত্ত এর মতই জীবন জাপন করেছেন। এরপর ২৩ শে ডিসেম্বর ২০১৩ সালে পৃথিবী ছেড়ে সেই মহাসত্যের দুনিয়ায় তিনি পাড়ি জমান ও একটি ইতিহাস সমাপ্ত হয়।


                                                         ছবি: বয়োজ্যেষ্ঠ কালাশনিকভ                    Image Source: wikimedia


বাংলাদেশ কখনোই একে-৪৭ ব্যাবহার করেনি

অনেকেই মনে করে বাংলাদেশ হয়তো একে-৪৭ ব্যবহার করে কিন্তুু বাস্তবতা হলো বাংলাদেশ কখনোই এটা ব্যবহার করেনি। স্বাধীনতার পর পরই বাংলাদেশ মিগ-২১ এর সাথে একে-৪৭ চাইলেও তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অনেকের মতে এর কারন বাংলাদেশেরই তথা কথিত একটি বন্ধু রাষ্ট্র কখনো চায়নি সম্মুখ যুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এত আধুনিক রাইফেল হাতে পাক।


            ছবি: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত টাইপ-৫৬ রাইফেল      
    
        Image Source: wikimedia
সেসময় চায়না বাংলাদেশের সাহায্যে এগিয়ে আসে এবং একে-৪৭ এর চাইনিজ ভার্সন টাইপ-৫৬ বাংলাদেশকে সরবরাহ করতে শুরু করে। এটিও ছিল সেই দশকের সেরা একটি রাইফেল। পরবর্তীতে বাংলাদেশ নিজেদের তৈরি বিডি-০৮ রাইফেল দিয়ে এই চাইনিজ রাইফেলগুলো রিপ্লেস করে।











এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url